Our Vision...

শুরুর কথা...
To begin with...

কোভিড-১৯ অতিমারীর ভয়ানক প্রকোপ এবং তা মোকাবিলার জন্য সরকারীভাবে নেওয়া আকস্মিক ব্যবস্থাপনা সমাজের প্রান্তিকায়িত অংশের শিশুদের পড়াশোনাকে ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শুধুমাত্র একটা শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়া নয়, স্কুলের পঠন-পাঠন থেকে দীর্ঘসময় বিচ্ছিন্নতা তাদেরকে আরও অন্ধকারে ঠেলে দেবে। ইতিমধ্যেই শহরে কাজ চলে যাওয়ায় অনেক পড়ুয়ার বাবা-মায়েদের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে হয়েছে। এই সব পড়ুয়াদের পঠনপাঠন সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্যে। লকডাউনের শুরু থেকেই কলকাতা ও বিধাননগর পৌর এলাকার বস্তিগুলোতে, বস্তিবাসী শ্রমজীবী অধিকার রক্ষা কমিটি-র পক্ষ থেকে সংহতি উদ্যোগের অংশ হিসেবে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে গিয়ে, তাদের সাথে কথা বলে দেখেছি, বুঝেছি এই শহরবাসী গরীব মানুষদের সংকটকে। সেখান থেকেই বস্তিবাসী, ঝুপড়িবাসী ও ফুটপাতবাসী খেটে-খাওয়া মানুষদের ক্ষমতায়নের দিশায় এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি আমরা।

The dire outbreak of the Covid-19 pandemic and the emergency measures taken by the government to deal with the disease have severely damaged the education of the children in the marginalized sections of our society. The academic year being pushed back by one year and the prolonged detachment from school will further darken their future chances of education. Already, many young students have left for their rural abodes after their parents have lost their jobs in the cities. Further education of these students is completely uncertain. From the beginning of the Lockdown period, as members of the Bastibasi Shramajibi Adhikar Raksha Committee when we reached out to the slum dwellers in the Kolkata, Bidhannagar, and its near about areas, with food and other necessary supplies as a part of our Sanhati Udyog, we spoke with the people and came to know about the difficulties they have been facing. We have felt the need for a long-term plan for the empowerment of slum dwellers and side-walk labourers from that time.

আমরা কারা? কোন সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি?

Who are we? Why have we taken the initiative?

বস্তিবাসী শ্রমজীবী অধিকার রক্ষা কমিটি, কলকাতা ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলের বস্তিতে বসবাসকারী মেহনতকারী মানুষদের অধিকার রক্ষার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা একটি সংগঠন। এটি তৈরি হয়েছিল ২০১৬ শালে। এই সংগঠনের পুরোভাগে রয়েছেন শহরের খেটে-খাওয়া বস্তিবাসী মানুষ। সাথে রয়েছেন সহ-নাগরিক বিভিন্ন মানুষঃ ছাত্রছাত্রী, গবেষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সমাজকর্মী ইত্যাদি নানা কর্মের সাথে যুক্ত সাথীরা।

নগরজীবন সচল রাখার জন্য নির্মাণ থেকে গৃহশ্রমিকের কাজ, কিংবা পৌরসভার হয়ে ময়লা সংগ্রহ, অটো, টোটো, রিক্সা, হকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে যুক্ত বস্তিবাসী মানুষরা। তাদের ছাড়া নগরজীবন অচল। অথচ ‘সুরক্ষা’ বা ‘অধিকারের’ বিষয়টি আলোচ্য হলে তারাই যেন ‘অদৃশ্য’ হয়ে যায় প্রশাসনের চোখে। জল, আলো, শৌচালয়, বসবাসের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হয়ে যেকোনো মুহূর্তে উচ্ছেদের ভয় নিয়ে তারা কোনমতে প্লাস্টিকের চালের নীচে মাথাগুঁজে দিন কাটাতে বাধ্য হন। এর সাথে রয়েছে কাজের অনিশ্চয়তা এবং “ন্যুনতম মজুরি”র থেকেও কম মজুরিতে কাজ করার বাধ্যবাধকতা। এই সমস্ত কিছুই সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে তাদের ভারতীয় সংবিধানে ঘোষিত “জীবনের অধিকার”কে লঙ্ঘন করে চলেছে। বস্তিবাসী শ্রমজীবী মানুষদের অধিকারের লড়াই শুধুমাত্র তাদের স্বার্থের জন্য নয়, তাদের অধিকারকে সুনিশ্চিত করে এমন সরকারি নীতির বাস্তবায়ন আসলে জরুরি একটা প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, সামূহিক কল্যাণকামী শহর তথা দেশ গড়ে তোলবার জন্য। কিন্তু এর উল্টোদিকে এই বস্তিবাসী মানুষদের অধিকারকে উপেক্ষা করে যাওয়া মানে আসলে এমন এক কাঠামোগত হিংসাকে জারী রাখা যেখানে শুধু সমাজ শাসনকারী ১ শতাংশ মানুষের কথাই ভাবা হয়! বস্তিবাসী তথা ফুটপাতবাসী মানুষদের এক বিরাট অংশ গোটা শহরের আবর্জনা পরিষ্কার কিংবা সংগ্রহ এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত। অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এই মানুষদের প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে, যা কিনা বর্তমান সময়ের অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করা যায়।

আমরা মনে করি যে বস্তিবাসী মানুষদের নাগরিক অধিকার একমাত্র সামাজিক আন্দোলন এবং সমাজ পরিবর্তনের মধ্যে দিয়েই সুরক্ষিত করা সম্ভব। বস্তিবাসী মানুষদের সত্যিকারের অংশগ্রহণ ছাড়া এই আন্দোলন সম্ভবপর নয়। এর সাথে বৃহত্তর সামাজিক সংহতির গঠনমূলক পরিসর গড়ে তোলাও জরুরি। এনএসএসও-র এক সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১৭-২০১৮ সালে ভারতবর্ষে ৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলছুট পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৩.২২ কোটি, যাদের অধিকাংশই শহরের বস্তিতে বসবাস করে। পরবর্তী সমীক্ষায় (যদি হয় এবং সেই পরিসংখ্যান প্রকাশ হয়) এই স্কুলছুট পড়ুয়ার সংখ্যাটা বেড়ে কত হবে আমাদের জানা নেই। লকডাউনে বাবা মায়েদের কাজ হারানো, বেতন না পাওয়া, দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকা সবমিলিয়ে অনেক বস্তিবাসী পড়ুয়াই বিভিন্ন শ্রমের সাথে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছে এবং হচ্ছে। ‘অনলাইন শিক্ষা’ এই শ্রেণির পড়ুয়াদের কাছে কোন মাধ্যম বা সমাধান নয় খুব স্বাভাবিকভাবেই। বেশিরভাগই প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী হওয়ায় বাড়িতে পড়াশুনো দেখিয়ে দেওয়ার বা পড়িয়ে দেওয়ার কেউ নেই। তাই এদের কাছে প্রথাগত স্কুলগুলোই একমাত্র জায়গা ন্যুনতম শিক্ষালাভ করবার। সেই প্রথাগত শিক্ষার্জনের “সৌভাগ্য”ও হয় না আবার সকলের। এই সমস্যা যদিও নতুন কিছু নয় এই শিক্ষার্থীদের জীবনে, কিন্তু কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে তা অনেক গভীরতর হয়েছে। আরো নিবিড়তর সামাজিক সংহতিই পারে এই পরিস্থিতির কিছুটা হলেও সুরাহা করতে।

Bastibasi Shramajibi Adhikar Raksha Committee is an organization formed out of spontaneous movements for the protection of the rights of labourers living in slums in and around Kolkata. It was founded in 2016. At the forefront of this organization are the slum dwellers of the city. We are accompanied by a variety of fellow citizens: students, researchers, teachers, doctors, lawyers, social workers, and many others.

Slum-dwellers are involved in various important activities ranging from construction to domestic labour, garbage collection, auto-rickshaw or Toto driving, rickshaw-pulling, and hawkers to keep the city life going. Our city-life is unmaintainable without them. But, when it comes to their ‘protection’ or ‘rights’, they seem to be ‘invisible’ even to the eyes of the administration. Deprived of basic facilities like water, light, toilets, a healthy living environment, they are forced to spend their days under make-shift plastic roofs with a constant fear of being evicted at any moment. Besides this, there is job uncertainty and the obligation to work for less than the ‘minimum wage’. All of these come together to socially and economically violate their ‘right to life’ enshrined in the Constitution of India. The struggle for the rights of slum-dwellers does not only serve their interests but also the implementation of government policies that ensure their rights is also essential to collectively build a progressive, democratic, city and therefore a country. On the other hand, to disregard their rights means to support and fuel the continuation of the system of the structural violence of a society that faithfully serves the top one percent of its people, i.e.the aristocrats. A large section of the slum-dwellers is engaged in collecting or cleaning up garbage throughout the city and its subsequent processes which mean that these people are directly involved in the process of maintaining the balance of our ecosystem which is a major issue of the present time.

We believe that the civil and social rights of the slum-dwellers can only be ensured through social changes and social movements. Without the direct involvement of the slum dwellers, this would not be possible. Along with this, it is also important to build up a constructive sphere for better social coherence. According to a survey conducted by NSSO, in the year 2017-18, the number of school drop-outs between the age of 6- 17 is near about 3.22 crores, most of who are slum-dwellers in different cities in the country. We can’t possibly imagine how much will this number increase by the time the next survey is conducted and published if ever. The loss of jobs of the parents, non-receipt, and deduction of salaries, and the shutting down of schools for a long period have forced many of the slum-dweller students to engage themselves in various forms of labour. Understandably, ‘online education is not a feasible or affordable solution for this section of students. Most of them being first-generation learners, have no one in the family to help them with their studies. Therefore, organized educational institutions like schools are the only medium to receive their basic education, and, sadly, not everyone is ‘fortunate’ enough even to get this bare minimum. This problem, nothing new in many cases, has become even more grave and complicated in the Covid situation. Only a more intensive social interlace can address this situation, albeit somewhat.

বস্তিতে সংহতি ইস্কুল 

Solidarity Schhols in the Slums

ভাবনাঃ
THE IDEA :

আমাদের একাংশের এর আগে এক দশকের ওপর বস্তিতে বসবাসকারী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্কুল চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। বস্তির মধ্যে বিদ্যালয়ের সিলেবাসভিত্তিক পঠনপাঠনের বাইরেও নিয়মিত এবং দীর্ঘমেয়াদিভাবে পড়াশোনা, গান, নাচ, আঁকা, সিনেমা দেখা, ব্যায়াম ইত্যাদির মাধ্যমে যৌথ শেখার একটি পরিবেশ গড়ে তোলা আমাদের পরিকল্পনা। সংহতি ইস্কুল ভাবনার দিক থেকে এমন একটি পরিসর যা বস্তি এলাকার বিবিধ অপ্রতুলতাজনিত প্রতিযোগিতার পরিবেশের বিপরীতে সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের একটি প্রয়াস, একসাথে সবাই মিলে ভালো থাকতে চাওয়ার একটি মূর্ত বহিঃপ্রকাশ। আসলে এই সংহতি ইস্কুল বস্তিবাসী তথা ফুটপাতবাসী মানুষদের অধিকারের জন্য যৌথ আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Some of us have more than a decade of experience running schools for adults and children living in slums. We plan to build an environment of collective learning through syllabus-based regular and long-term studies in addition to singing, dancing, drawing, exercises, watching movies, etc. Sanhati School, can be said, is a bunch of ideas that attempts to take collaborative actions against the various unequal and inadequate competitiveness in the slum area, a manifestation of our efforts to have a better life for all of us. This school is, in fact, an integral part of the collective movement for the rights of slum dwellers.    

পরিকল্পনাঃ
THE PLAN :

প্রত্যেক বস্তিতেই বেশ কিছু উৎসাহী তরুণ, তরুণী আছে যারা বস্তির শিশু এবং নিরক্ষর বয়স্ক মানুষদের পড়াতে আগ্রহী এবং পড়ানোর জন্য উপযুক্ত। বস্তিজীবনের সাথে জৈবিকভাবে যুক্ত এই শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই পরিকল্পনাটিকে নিয়মিতভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন এবং সচল রাখার জন্য এই শিক্ষকদের পরামর্শ, ন্যুনতম আর্থিক সহায়তা ও পঠনপাঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমসহ অনান্য বেশকিছু জিনিস প্রয়োজন।

In each slum area, several young enthusiasts are eligible and interested in helping out illiterate aged people and young students. These teachers, who are biologically linked with the slum life, can very well help in the successful continuation of the plan with their active participation. But, to implement and continue this plan in reality, these teachers need a specific curriculum, advice, and financial support along with some other things.

Leave a Message :

Want to make financial Contribution?

or